প্যাকেজ-লাল মাটিতে বাণিজ্যিক লটকন চাষ, ফলন দামে খুশি কৃষক
মেহেদী হাসান বকুল, মধুপুর (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের আনারসের রাজধানী মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে ভেষজগুণ সমৃদ্ধ লটকন চাষ হচ্ছে। বিষমুক্ত জৈবিক উপায়ে লটকনের সাথে শখের বশে চাষ করছেন থাই পেয়ারা, আনারস, লেবু,মাল্টা, আমা, হাম, এবাকাডো, মরিচ ও পেঁপেসহ নানা ফসল। বানিজ্যিক ভাবে লটকন চাষে স্বপ্ন বুনছেন সৌখিন চাষীরা । স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের লটকন যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় । অপ্রচলিত ফসল চাষে সরকারী প্রনোদনা ও সারসহ কৃষি উপকরণের দাম সহলভ্য করার দাবি কৃষকদের। কৃষি কর্মকর্তা বলছে, চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।
মধুপুর গড়ের লাল মাটি শুধু আনারস কলার জন্য বিখ্যাত হলেও মাটির গুনাগুণের কারণে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে লটকনও। অপ্রচলিত অর্থকরি এ ফসলটি প্রথমে শখের বশে চাষ শুরু করলেও এখন বাণিজ্যিক চাষে পরিণত হচ্ছে।
কৃষকরা বাগান জুড়ে গড়ে তোলেছে মিশ্র ফলের সাথে লটকণের খন্ড খন্ড কৃষি রাজ্য। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের লটকনের বাহার। চোখ জুড়ানো এ ফল থোকায় থোকায় তোলে ক্যারেট ভরে বাগান থেকেই নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। আকার ও স্বাদের ভিন্নতার কারণে স্থানীয় বাজারে যেমন চাহিদা বাড়ছে, তেমনি নজড় কাড়ছে অন্যান্য জেলাতেও। মিশ্র বাগানে বাড়তি খরচ না থাকায় ফলন ও দাম পেয়ে দিন দিন বাড়ছে লটকন চাষ।
বাগান থেকে লটকন তোলে নিচ্ছে পাইকাররা। ক্যারেট ভর্তি করছে পরিবহনে নেয়ার জন্য। এগুলো স্থানীয় বাজার ও অন্যান্য জেলায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দৃশ্য আউশনারা,বেরিবাইদ ও মহিষমারার ইউনিয়নের,,
কৃষকরা আর পাইকাররা বলছে,মধুপুর গড় ফল ফসলের এলাকা হিসেবে পরিচিত। আনারস কলার মতো লটকনসহ বিভিন্ন ফলমূল দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায়।
বড় চাষীরা বলছে, মিশ্র বাগানে এ বছর লটকন বিক্রি করেছে কয়েক লক্ষ টাকা। চাহিদা ভালো থাকায় দাম ভালো পাচ্ছে,,
সট- ডা. মুহাম্মদ আলী, লটকন চাষী
মধুপুর গড়ের লাল মাটি লটকনসহ অন্যান্য ফসর চাষের জন্য বিশেষ উপযোগি। ভেষজগুণ সমৃদ্ধ দেশি ফল লটকন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবে। অনেক চাষী ও উদ্যোক্তা নিজ আগ্রহে লটকন চাষে এগিয়ে আসছে। কৃষি বিভাগ চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
সট: মমতাজ বেগম , উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মধুপুর, টাঙ্গাইল।
পে-অফ :
চলতি বছর ৭ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে।ভেষজগুন সমৃদ্ধ লটকন চাষ বৃদ্ধি পেলে চাষীরা গুনবে লাভের অংক আর কর্মসংস্থান, পুষ্টি ভিটামিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষিতে ফিরবে দেশি ফলের বৈচিত্র্য। একই জমিতে এক সাথে মিশ্র ফসলের চাষে এগিয়ে যাবে চাষীরা। বৈচিত্র্যময় কৃষি অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।