মধুপুরে সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ
মেহেদী হাসান বকুল মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বজলুর রশিদ খান (চুন্নু)। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় মধুপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বজলুর রশিদ খান বলেন, গত ২২ আগস্ট মধুপুর প্রেসক্লাবে লাবনী আক্তারসহ একটি পক্ষ তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তাঁকে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘জালিয়াতি চক্রের হোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর ক্রয়কৃত ও পৈতৃক সব জমি বৈধ দলিল, নামজারি ও সরকারি খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখলে রয়েছে। কোনো জমি জাল দলিল বা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ সত্য নয়। জমি নিয়ে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেগুলোর কিছু আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায় হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সাবেক এই অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে হয়েছে। সেসব সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে বলেন, দীর্ঘদিন নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে উত্তর টাঙ্গাইলের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে বজলুর রশিদ খান বলেন, পুণ্ডুরা ও বোয়ালী মৌজায় তাঁদের স্বত্বদখলীয় জমিতে আবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১১ জুন পুণ্ডুরা মৌজার একটি পুকুরে মাছ ধরা ও জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পানিতে চুবিয়ে রাখার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ১৯ জুন মধুপুর থানায় মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের তথ্য তুলে ধরে বলেন, তাঁর ও তাঁর পিতার নামে কোনো জাল দলিল থাকলে তা প্রমাণিত করার জন্য তিনি প্রতিপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বজলুর রশিদ খান বলেন, ১৯৬৮ সালের একটি দলিলসহ বিভিন্ন সময়ে ক্রয় করা জমির বৈধ কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। পুণ্ডুরা মৌজায় ১৯৭২ সালে রেজিস্ট্রি কবলা দলিলের মাধ্যমে ১১২ শতাংশ জমি কেনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বোয়ালী মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের উত্থাপিত অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে তাঁদের পক্ষ থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার হুমকির অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা এবং জমি বেদখলের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারায় করা একটি মামলাও রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫টি মামলা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘আমার মালিকানাধীন সব ভূমির বৈধ কাগজপত্র উন্মুক্ত রয়েছে। যে কোনো আদালত কিংবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে দলিলপত্র নিয়ে বসতে আমি প্রস্তুত। তারা তাদের জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে আমি শর্তহীনভাবে জমি ছেড়ে দেব।’’
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।