
মৌলভীবাজারের ডলি বেগম এখন কানাডার এমপি
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টি অফ কানাডা-এর প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে সরকারের আইন পাস ও নীতিনির্ধারণ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কানাডার স্থানীয় সময় সোমবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনগুলো হয় অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে। এর মধ্যে মাত্র একটি আসনে জয় পেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হতো লিবারেলদের।
উপনির্বাচনের আগে পার্লামেন্টে লিবারেলদের আসন সংখ্যা ছিল ১৭১। পরবর্তীতে কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দিলে অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। সর্বশেষ উপনির্বাচনে জয় পেয়ে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪-এ।
এর আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে তিনবার নির্বাচিত এমপিপি ছিলেন। তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর প্রার্থী হিসেবে ২০১৮, ২০২২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে জয়ী হন। কানাডার কোনো আইনসভায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি।
চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার-এর বিদায়ের পর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পান ডলি বেগম।
লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডলি বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তিনি কাজ করতে চান। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডলি বেগমের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার সদর উপজেলা-এর বাজরাকোনা গ্রামে। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।