1. admin@dailynewsbanglanb.com : admin :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মমিনপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী – আমজাদ সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: রংপুর পাগলাপীরে পথসভায় – প্রধানমন্ত্রী সরিষাবাড়ীতে ২৭৮.৩০মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্থানীয় এমপি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সরিষাবাড়ীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ বারবার ভেঙেছি, তবুও থামিনি— স্বপ্নটা বড় ছিল বলেই বারবার উঠে দাঁড়িয়েছি চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় ধাক্কা খেয়েছেন, ফেসবুকের ২৭০ ভিডিও হারিয়েছেন—তবুও স্বপ্নের পথে ঘাটাইলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর—রিগান। শৈশবের বন্ধন অটুট রেখে যমুনার বুকে নৌভ্রমণ, গ্রামকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার সরিষাবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত। উত্তরায় ১৫ নম্বর সেক্টর সি ব্লকে রাজউকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রতিবাদে দিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমির মানববন্ধন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় হাজী মোস্তফা জামান উত্তরায় খেলার মাঠ দখলমুক্ত করলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক স্বস্তিতে এলাকাবাসীর

কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নারী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ, একজন আটক

মেহেদী হাসান বকুল , মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নারী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ, একজন আটক

মেহেদী হাসান বকুল মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকায় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ডিভোর্সি এক নারী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কবিরাজসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন ওই নারীর বাবা। অভিযোগের তদন্তে পুলিশএক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, কুড়াগাছা ইউনিয়নের মালিবাজার এলাকার ওই ডিভোর্সি নারী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির একজনের মাধ্যমে গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন মুসা ওরফে বাবু কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হন।
সূত্রগুলোর দাবি, চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে বাবু কবিরাজ দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর বাবার বাড়িতে যান। সেখানে রোগের বর্ণনা ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়।
পরে গত শনিবার ওই নারী তার মায়ের সঙ্গে বাবু কবিরাজের বাড়িতে যান।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মাকে পাশের কক্ষে বসিয়ে রেখে কবিরাজের সহযোগিতায় এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। ঘটনার পর ওই নারীর বাবা মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ কবিরাজ ও ইমাম হাসান হৃদয় নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হয়। কিন্তু পুলিশ ভিটেবাড়ির মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছেলে সেলিম ( আল আমিন) কে আটক করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে।
অভিযোগের সেলিম আটকের বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকজন নেতা থানায় যান এবং বিষয়টি জানতে চান। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছিল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশ মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে অপর একজনকে আটক করেছে। এ নিয়ে তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, তৃতীয় একজনকে আটকের কারণ এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তারা। তাদের দাবি, এ বিষয়ে জানতে তারা শনিবার রাতে দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর বাবা( বাদী) ও মাকে আটকে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন। তারা জানান, শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত তারা পুলিশী পাহারায় থানায় অবস্থান করেন। তাদের প্রতি অযত্ন অবহেলা করার অভিযোগও করেন।

তবে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকার মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছেলে আলআমিন ওরফে সেলিমকে আটক করা হয়েছে।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে যাকে আটক করা হয়েছে, তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিষয়ে তদবির করতে থানায় আসা আইনসম্মত নয়।”

তিনি আরও বলেন, বাদীর এজাহারে স্বাক্ষর ও এফআইআরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাদীর থানায় অবস্থান প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই তাকে পুলিশের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এর বাইরে তাকে আটকে রাখার কোনো বিষয় নেই।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী, তার বাবা ও মাকে পুলিশের হেফাজতে রেখে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রোববার তাদের টাঙ্গাইলে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় পরে আবার মধুপুর থানায় আনা হয়। সোমবার সকালে পুনরায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের টাঙ্গাইলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রাখা, তাদের প্রতি আচরণ এবং কঠোর নজরদারি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানতে থানায় গেলেও তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানতে থানায় গিয়েছিলেন।

তিনি তাদের অভিভাবক হিসেবে পুলিশের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফ সাংবাদিকদের জানান, “আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।”

অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর