1. admin@dailynewsbanglanb.com : admin :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মমিনপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী – আমজাদ সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: রংপুর পাগলাপীরে পথসভায় – প্রধানমন্ত্রী সরিষাবাড়ীতে ২৭৮.৩০মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্থানীয় এমপি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সরিষাবাড়ীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ বারবার ভেঙেছি, তবুও থামিনি— স্বপ্নটা বড় ছিল বলেই বারবার উঠে দাঁড়িয়েছি চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় ধাক্কা খেয়েছেন, ফেসবুকের ২৭০ ভিডিও হারিয়েছেন—তবুও স্বপ্নের পথে ঘাটাইলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর—রিগান। শৈশবের বন্ধন অটুট রেখে যমুনার বুকে নৌভ্রমণ, গ্রামকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার সরিষাবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত। উত্তরায় ১৫ নম্বর সেক্টর সি ব্লকে রাজউকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রতিবাদে দিয়াবাড়ি ফুটবল একাডেমির মানববন্ধন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় হাজী মোস্তফা জামান উত্তরায় খেলার মাঠ দখলমুক্ত করলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক স্বস্তিতে এলাকাবাসীর

বারবার ভেঙেছি, তবুও থামিনি— স্বপ্নটা বড় ছিল বলেই বারবার উঠে দাঁড়িয়েছি চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় ধাক্কা খেয়েছেন, ফেসবুকের ২৭০ ভিডিও হারিয়েছেন—তবুও স্বপ্নের পথে ঘাটাইলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর—রিগান।

আব্দুল লতিফ ঘাটাইল  (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত

বারবার ভেঙেছি, তবুও থামিনি—
স্বপ্নটা বড় ছিল বলেই বারবার উঠে দাঁড়িয়েছি
চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় ধাক্কা খেয়েছেন, ফেসবুকের ২৭০ ভিডিও হারিয়েছেন—তবুও স্বপ্নের পথে ঘাটাইলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর—রিগান।

আব্দুল লতিফ ঘাটাইল  (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

“পথ যতই কঠিন হোক, হাঁটতে হয়—
স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, একদিন ঠিকই পেতে হয়।
পড়ে গেলে কাঁদব, আবার উঠে দাঁড়াব—
হার মানব না, স্বপ্নের পিছু ছুটেই যাব।”

জীবন কখনো ফুল বিছানো পথ নয়। কখনো সেখানে থাকে কাঁটা, কখনো অন্ধকার, কখনো একের পর এক ব্যর্থতার দেয়াল। কেউ সেই দেয়ালের সামনে থেমে যায়, আবার কেউ দেয়াল টপকে নতুন পথ খুঁজে নেয়। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের লাউয়া গ্রামের তরুণ মো. রিগান যেন দ্বিতীয় পথেরই এক জীবন্ত উদাহরণ। জীবনে বারবার ধাক্কা এসেছে, স্বপ্ন ভেঙেছে, চোখে পানি এসেছে—কিন্তু থেমে যায়নি তার পথচলা।
এসএসসি-এইচএসসি পেরিয়ে অনার্স, তারপর বদলে গেল জীবনের গল্প

রিগান লাউয়াগ্রামের সরকার বাড়ির সন্তান। তার বাবা হযরত আলী (নিশা) এবং মা সাবিনা পারভীন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বোন সবার বড় এবং ভাইদের মধ্যে রিগান বড়। ছোট ভাই বর্তমানে অনার্সে পড়াশোনা করছে। বাবা-মা দুজনই জীবিত।
পড়াশোনায়ও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল তার। এসএসসি পাস করার পর এইচএসসিও সম্পন্ন করেন। এরপর ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। পড়াশোনা করতে করতে পৌঁছে যান ফাইনাল ইয়ারে।

কিন্তু জীবনের গল্প সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয় না।
অনার্সের শেষ পরীক্ষায় আর বসা হয়নি। জীবনের অন্য এক অধ্যায়ে পা রাখেন তিনি—প্রেম করে বিয়ে করেন।
এরপর শুরু হয় জীবিকার জন্য নতুন এক সংগ্রাম।
চাকরি—বারবার শুরু, বারবার শেষ
বড় বোন রিগানের জন্য কয়েকবার চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। কোথাও দুই মাস, কোথাও তিন মাস—কিছুদিন কাজ করার পর আবার চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসতেন তিনি।
বারবার এমন হওয়ায় একসময় বড় বোনের কাছ থেকে মারও খেতে হয়েছে তাকে।
কিন্তু সেই আঘাতও তাকে থামাতে পারেনি।
আবার চাকরি খুঁজেছেন। আবার নতুন করে শুরু করেছেন। আবার ব্যর্থ হয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত একসময় সিদ্ধান্ত নেন—এবার আর বাড়িতে থাকবেন না।
চলে যান চট্টগ্রামে।
এক চাচাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের একটি লবণ ফ্যাক্টরিতে কাজ নেন রিগান।
কিন্তু সেখানেও স্থায়ী হতে পারেননি। প্রায় ১৫ দিন পরপর বাড়িতে ফিরে আসতেন। জীবনের অনিশ্চয়তা তখনও তার সঙ্গী।
তারপরও তিনি চেষ্টা করে গেছেন—কখনো চাকরি, কখনো ব্যবসা, কখনো নতুন কোনো উদ্যোগ।
একপর্যায়ে এলাকায় একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন রিগান।
এবার যেন ভাগ্যের চাকা একটু ঘুরতে শুরু করেছিল। মাছ চাষে ভালো লাভও আসে। মনে হয়েছিল, হয়তো এবার জীবনের একটা স্থায়ী পথ খুঁজে পেয়েছেন।
কিন্তু সেই আশাতেও বাধা আসে।
পুকুরের মালিকরা পুকুর সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরবর্তী সময়ে আর সেটি লিজ নেওয়ার সুযোগ হয়নি।
আবারও স্বপ্নে ধাক্কা।

আবারও শূন্য থেকে শুরু।
এক বন্ধুর একটি কথায় বদলে গেল জীবনের দিক
বারবার ব্যর্থতার পরও রিগান স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি।

একদিন এক বন্ধু তাকে বললেন—ফেসবুক থেকেও আয় করা যায়।
কথাটি যেন তার জীবনে নতুন একটি জানালা খুলে দিল।
নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রফেশনাল মোড চালু করে শুরু করলেন কনটেন্ট তৈরি।
দিন-রাত পরিশ্রম। নতুন কিছু করার চেষ্টা। ভিডিও তৈরি, প্রকাশ—এভাবেই কেটে যায় প্রায় সাত-আট মাস।
কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছিল আরও বড় ধাক্কা।
এক মুহূর্তে হারিয়ে গেল ২৭০ ভিডিও!
ভিডিওতে মিউজিক ব্যবহারের কারণে কপিরাইট সমস্যায় পড়ে রিগানের প্রায় ২৭০টি ভিডিও ডিলিট হয়ে যায়।
যে ভিডিওগুলো তৈরি করতে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছিলেন, যে কাজের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তার স্বপ্ন—সেগুলো একে একে হারিয়ে গেল।
সেই ধাক্কা তিনি সহজে নিতে পারেননি।
কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
মনে হয়েছিল—
“হয়তো আমার জীবনে ভালো কিছু লেখা নেই।”
কিন্তু জীবন তখনও তাকে শেষ কথা বলেনি।
দুই মানুষের অনুপ্রেরণায় আবার ক্যামেরার সামনে
ঠিক সেই কঠিন সময়ে পরিচয় হয় পাশের উপজেলা কালিহাতীর মানিক মিয়ার সঙ্গে। পাশাপাশি পরিচয় হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুরের আল আমিনের সঙ্গে।
তাদের কাজ দেখে নতুন করে অনুপ্রাণিত হন রিগান।
শুরু করেন ফানি ভিডিও তৈরি।
আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।
আবার শূন্য থেকে শুরু করেন।
আর এবার তার পরিশ্রমের ফলও আসে দ্রুত।

প্রায় তিন মাসের মধ্যেই তিনি অর্জন করেন Facebook Ads on Reels monetization।
এরপর একে একে আসে In-stream Ads, Stars Monetization এবং সর্বশেষ Content Monetization।
এভাবেই কেটে যায় প্রায় পাঁচ বছর।
আয় কমেছে, কিন্তু স্বপ্ন কমেনি
একসময় ফেসবুক থেকে ভালো আয় আসতে শুরু করেছিল রিগানের। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই আয় অনেক কমে যায়।
আবারও হতাশা।
আবারও মন খারাপ।
কিন্তু এবারও তিনি থামেননি।

এখনো নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। ফেসবুকের পাশাপাশি ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকেও ভিডিও প্রকাশ করছেন।
তার ভাষায়, ভাগ্যের চাকা এখনো পুরোপুরি ঘোরেনি। তবে চেষ্টা থামেনি।

যখন শুরু করেছিলেন, তখন পাশে ছিল না বড় কোনো টিম
রিগান যখন কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন, তখন ঘাটাইলে এই কাজের সঙ্গে খুব বেশি মানুষ যুক্ত ছিলেন না।
ছিল না দামি ক্যামেরা।
ছিল না পেশাদার ক্যামেরাম্যান।
ছিল না বড় কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
শুরুতে সাত-আটজনের একটি ছোট টিম ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেকেই নিজেদের কাজে চলে গেছেন।
বর্তমানে নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে কাজ করছেন ফরহাদ কমেডি ও জয়। তারাও নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
তারপরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রিগান।
“অনেক কথা শুনেছি, কিন্তু থামিনি”
কনটেন্ট তৈরি করার কারণে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে নানা কথা।
কখনো উপহাস,
কখনো সমালোচনা,
কখনো নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।
এমনকি ভিডিও বানানোর কারণে বড় বোনের কাছ থেকে মারও খেতে হয়েছে। তবুও তিনি থামেননি।
কারণ তার কাছে স্বপ্ন মানে শুধু সফল হওয়ার ইচ্ছা নয়—
স্বপ্ন মানে পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস।
আজও নেই বড় টিম, নেই দামি ক্যামেরা—আছে শুধু স্বপ্ন
জীবনের পাঁচ বছরের এই পথচলায় রিগান পেয়েছেন অনেক কিছু, হারিয়েছেনও অনেক কিছু।
চাকরি টেকেনি।
ব্যবসার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
ফেসবুকের শত শত ভিডিও হারিয়েছে।
আয় কমেছে।কাছের মানুষদের কটু কথা শুনতে হয়েছে।
তবুও তার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি হলো—তিনি থামেননি।

আজও তার হাতে হয়তো নেই দামি ক্যামেরা। নেই বড় কোনো টিম। নেই বড় কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
আছে শুধু—
নিজের ওপর বিশ্বাস, কাজ করার মানসিকতা আর স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছা। রিগানের গল্প কোনো সফলতার সমাপ্তি দিয়ে লেখা গল্প নয়।

বরং এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি এখনো পথ চলছেন।
হয়তো তিনি এখনো তার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। হয়তো ভাগ্যের চাকা এখনো পুরোপুরি ঘোরেনি।
কিন্তু তিনি জানেন—
থেমে গেলে স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।
তাই তিনি আবার ভিডিও বানান।
আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।
আবার নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেন।
তার বিশ্বাস—একদিন না একদিন সফলতা আসবেই।
“ঝড় এলে গাছ নড়ে,
কিন্তু শিকড় যদি শক্ত থাকে—
গাছ ভেঙে পড়ে না।”
রিগানের শিকড়ও যেন তেমনই শক্ত।
জামুরিয়ার লাউয়াগ্রামের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান থেকে আজ তিনি নিজের পরিচয় তৈরি করার লড়াইয়ে ব্যস্ত। তার গল্পে এখনো অনেক অধ্যায় বাকি।হয়তো আজ তিনি শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

কিন্তু আগামী দিনের গল্পে হয়তো তার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে—“একজন সফল সংগ্রামী মানুষ।”
“বারবার পড়ে যাওয়া ব্যর্থতা নয়,
পড়ে গিয়ে আর উঠে না দাঁড়ানোই আসল ব্যর্থতা।”
আর তাই সব হারিয়েও রিগানের কণ্ঠে এখনো সেই দৃঢ় উচ্চারণ—
“আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। সফলতা একদিন ঠিকই আসবে।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর